cropped-Icon.png
Loading ...
শুক্র. এপ্রি ৪, ২০২৫
ছবিঃ সংগৃহীত

সৈয়দ মিছবাহ: দীর্ঘ আইনি লড়াই ও প্রশাসনিক তৎপরতার পর অবশেষে অবৈধ দখলমুক্ত করে কুলাউড়ার তিনটি গুরুত্বপূর্ণ জলমহাল সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। বিগত ৫ আগস্টের পর থেকে উপজেলা প্রশাসন একের পর এক অভিযান চালিয়ে বিন্দারানির দিঘি, হ্যালিপ্যাড পুকুর ও কাটুয়া বিলকে সরকারি রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছে। এই সাফল্যের ফলে দীর্ঘকাল ধরে রাজস্ব বঞ্চিত সরকার এখন থেকে এই জলমহালগুলো থেকে নিয়মিত আয় করতে পারবে।

জানা যায়, প্রায় ৭ একরের ঐতিহাসিক পুরকুর বিন্দারাণির দিঘি ২০১৪ সাল থেকে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী বিভিন্ন মামলা মোকদ্দমার মাধ্যমে সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে রেখে ভোগ করে আসছিল। অবশেষে ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুকুরটি সরকারের দখলে নিয়ে আসেন এবং পুনরায় ইজারা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেন। আইনি জটিলতা নিরসনের পর ডিসেম্বর মাসেই উন্মুক্ত নিলামের মাধ্যমে ২ লাখ ৫শত টাকায় চলতি বছরের বাকি তিন মাসের জন্য পুকুরটি ইজারা দেওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১ লা বৈশাখ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ থেকে দিঘিটি নতুন করে ইজারা দেওয়ার কাজও সম্পন্ন হয়েছে। দীর্ঘ ১১ বছর পর ঐতিহ্যবাহী এই দিঘিটি পুনরায় সরকারের নিয়ন্ত্রণে আসায় স্থানীয় মহলে আনন্দের বন্যা বইছে।

অন্যদিকে, উপজেলার কাদিপুর ইউনিয়নের ২ একরের হ্যালিপ্যাড পুকুরটি ফানাই নদীর সংযোগস্থলে অবস্থিত হওয়ায় মাছের প্রাচুর্যের জন্য বিখ্যাত। তবে স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে পুকুরটি কখনোই সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। মৎস্য আহরণের বিপুল সম্ভাবনা থাকায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) পুকুরটিকে সায়রাতভুক্ত করার উদ্যোগ নেন। প্রথম ধাপে অবৈধ দখল উচ্ছেদ করে সরকারি ব্যবস্থাপনায় মাছ ধরে নিলামের মাধ্যমে সরকারের কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তীতে জমির শ্রেণি পরিবর্তন করে জেলা প্রশাসকের অনুমতি নিয়ে পুকুরটিকে সরকারি সায়রাত রেজিস্ট্রারে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অতি শীঘ্রই সরকারি ব্যবস্থাপনায় পুকুরটি ইজারার জন্য পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হবে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রশাসন।

এছাড়াও, চকিয়া বিলের পাশে ২৬ একরের কাটুয়া বিলটি এতদিন সরকারের অগোচরে স্থানীয় প্রভাবশালী মৎস্যজীবীরা ভোগদখল করে আসছিলেন। প্রতি বছর প্রায় ১০ থেকে ১৫ লাখ টাকার মাছ বিক্রি হলেও সরকার কোনো রাজস্ব পেত না। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নজরে এলে সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা সরেজমিনে তদন্ত করে বিলটিকে সরকারের ৬ নং রেজিস্ট্রারভুক্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেন। দীর্ঘ কয়েক দফা নথি আদান-প্রদান ও সংশোধনের পর অবশেষে সিলেট বিভাগীয় কমিশনার বিলটিকে সরকারি জলমহাল হিসেবে অনুমোদন দিয়েছেন। এর ফলে সরকারের রাজস্ব ফাঁকি রোধ করা সম্ভব হবে।

এই তিনটি জলমহালকে অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনার ক্ষেত্রে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মহিউদ্দিন ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেন অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন। সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ জহুরুল হোসেনের নিয়মিত প্রচেষ্টা ও কঠোর পরিশ্রম এই সাফল্য অর্জনে বিশেষ অবদান রেখেছে। তাদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছে স্থানীয় জনসাধারণ এবং আশা প্রকাশ করেছে যে, ভবিষ্যতে অন্যান্য সরকারি সম্পত্তিকেও অবৈধ দখলমুক্ত করে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি করা সম্ভব হবে।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *