cropped-Icon.png
Loading ...
শুক্র. এপ্রি ৪, ২০২৫

মিয়ানমার-থাইল্যান্ডে ভূমিকম্পের পর উচ্চ ঝুঁকিতে বাংলাদেশের ৪ অঞ্চল, ফায়ার সার্ভিসের ৯ সতর্কতা

ছবি: প্রতীকী

মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডে শক্তিশালী ভূমিকম্পের প্রভাবে বাংলাদেশেও ভূমিকম্পের ঝুঁকি বেড়েছে। বিশেষ করে দেশের চারটি অঞ্চল—চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা—উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর।

সংস্থাটি শনিবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ভূমিকম্প মোকাবিলায় দেশজুড়ে পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ৯টি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সতর্কতা জারি করেছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত শুক্রবার মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের বিভিন্ন স্থানে পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে, যার মাত্রা রিখটার স্কেলে ছিল যথাক্রমে ৭.৭ ও ৬.৪। এই ভূমিকম্পে দেশ দুটিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, বাংলাদেশেও একই মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে এবং এতে চট্টগ্রাম, সিলেট, ময়মনসিংহ ও ঢাকা অঞ্চল সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।

এই পরিস্থিতিতে ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর সকলের প্রতি নিম্নলিখিত ৯টি পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে:

১. বাংলাদেশ ন্যাশনাল বিল্ডিং কোড ২০২০ অনুযায়ী ভূমিকম্প প্রতিরোধী ভবন নির্মাণ করা।

২. ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো ভবনগুলোর সংস্কার এবং সেগুলোকে শক্তিশালী করার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া।

৩. সকল বহুতল ও বাণিজ্যিক ভবনে কার্যকর অগ্নিপ্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।

৪. গ্যাস, পানি ও বিদ্যুতের লাইনের সঠিকতা নিয়মিতভাবে পরীক্ষা করা।

৫. ভূমিকম্প চলাকালীন সময়ে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে কী করণীয়, সে বিষয়ে নিয়মিত মহড়া এবং প্রচারের ব্যবস্থা করা।

৬. ফায়ার সার্ভিস, অ্যাম্বুলেন্স, পুলিশ, হাসপাতাল এবং অন্যান্য জরুরি টেলিফোন নম্বর ব্যক্তিগতভাবে এবং সকল ভবন বা স্থাপনায় সংরক্ষণ করা এবং তা সহজে দেখা যায় এমন স্থানে লিখে রাখা।

7. ভলান্টিয়ার প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে দুর্যোগকালীন সময়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখা।

8. বাসা-বাড়িতে টর্চলাইট, অতিরিক্ত ব্যাটারিসহ রেডিও, বাঁশি, হাতুড়ি, হেলমেট বা কুশন, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ঔষধ, ফার্স্ট এইড বক্স, শিশু যত্নের সামগ্রীসহ জরুরি ব্যবহারের সরঞ্জাম একটি নির্দিষ্ট স্থানে সংরক্ষণ করা, যাতে ভূমিকম্পের পর আটকা পড়লে সেগুলো ব্যবহার করে জীবন বাঁচানো যায়।

9. ভূমিকম্প প্রতিরোধে সকল পর্যায়ে তদারকি সংস্থার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তর জানিয়েছে, তারা এসব বিষয়ে বিভিন্ন সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করছে। যেকোনো তথ্যের জন্য অধিদপ্তরের মিডিয়া সেলের ০১৭২২৮৫৬৮৬৭ নম্বরে অথবা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের হটলাইন নম্বর ১০২-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। এছাড়াও, ফায়ার সার্ভিসের ওয়েবসাইট www.fireservice.gov.bd থেকেও প্রয়োজনীয় তথ্য সংগ্রহ করা যাবে।

কর্তৃপক্ষ সকলের প্রতি ভূমিকম্পের ঝুঁকি মোকাবেলায় সতর্ক থাকার এবং পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

Related Post

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *