লিখেছেনঃ সৈয়দ মিছবাহ – সিইও, বিডি টাইমস ২৪
আজ ঈদের দ্বিতীয় দিন। কারও ঘরে এখনও চলেছে উৎসবের আমেজ, সেমাইয়ের গন্ধে ভরে আছে সকাল, কেউ ঘুরতে বেরোচ্ছে প্রিয়জনদের সঙ্গে, কেউ ছবি তুলে হাসছে ফেসবুকে।
কিন্তু…
একটু চোখ ফিরিয়ে দেখলে দেখা যাবে, এই শহরেরই অন্যপ্রান্তে কেউ আজও খালি হাতে বসে আছে। কারও ঘরের চুলা ঈদের দিনও জ্বলেনি, আজও জ্বলেনি। ঈদ তাদের কাছে ছিল না কোনো উৎসব—ছিল আরেকটা শূন্য দুপুর, আরেকটা খালি প্লেট, আরেকটা প্রশ্নবোধক চাহনি তাদের সন্তানের চোখে—”আমাদের ঈদ কবে হবে, বাবা?”
আমরা যারা ঈদের খুশিতে সয়লাব, আমরা কি একবারও ভেবেছি তাদের কথা? যাদের কাছে ঈদ মানেই আত্মীয়দের বাসায় নয়, বরং সাহায্যের আশায় পেছনের গেট ধরে দাঁড়িয়ে থাকা?
হ্যাঁ, আমাদের সমাজে এখনো অনেক হৃদয়বান আছেন। কেউ যাকাত দিয়েছেন, কেউ বস্ত্র বিতরণ করেছেন, কেউ হয়তো একটু চুপিচুপি গিয়ে কারো ঘরে কিছু খাবার পৌঁছে দিয়েছেন—এদের প্রতি শ্রদ্ধা থাকুক নিঃশর্তভাবে।
তবে প্রশ্নটা এখানেই—এই সহায়তা কি যথেষ্ট? ঈদের দুদিন গেল, কিন্তু যাদের ঈদ এখনো আসেনি, তাদের কী হবে?
আমরা ভুলে যাই, ঈদ শুধু নিজের জন্য নয়। ঈদ মানে একসাথে হাসার, একসাথে খাওয়ার, একসাথে আনন্দ ভাগ করার নাম। ঈদের দ্বিতীয় দিনে দাঁড়িয়ে এই কথাটা আরও জোরে বলার সময় এসেছে—
ঈদ তখনই ঈদ, যখন প্রতিবেশীর চোখেও হাসি ফুটে।
চলুন, এই ঈদে শুধু সেলফি না তুলে, কারও চোখে জল মুছিয়ে দিই। হয়তো এক প্লেট খাবার, এক জোড়া জুতা বা একটা নতুন জামাই কাউকে আবার বাঁচতে শেখাবে।
ঈদ মোবারক।
এই ঈদের দ্বিতীয় দিনে চলুন প্রতিজ্ঞা করি—আমার খুশি ততক্ষণ পর্যন্ত সম্পূর্ণ নয়, যতক্ষণ না আমার চারপাশের মুখগুলোতেও হাসি ফুটছে।